নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা:
গতকাল ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৩৭তম মালদা জেলা বইমেলার মূল মঞ্চ ‘বন্দেমাতরম মঞ্চ’-এ অনুষ্ঠিত হল বাংলার অন্য ধারার অনন্য প্রকাশনী সংস্থা শোভা প্রকাশনীর বিশেষ পুস্তক প্রকাশ অনুষ্ঠান। এই প্রথম মালদা জেলা বইমেলায় একই দিনে, একই সময়ে শোভা প্রকাশনীর উদ্যোগে নানান বিষয়ের বারোটি বই প্রকাশিত হয়, যা জেলার বইমেলা ও সাহিত্য জগতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। জেলার ১২ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিকের হাতে বইগুলি প্রকাশ করে দেবাশীষ দেব শর্মা এই ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মালদা জেলা বইমেলার যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা গ্রন্থাগার সচিব প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “দেবাশীষ দেব শর্মা আমাদের মালদা জেলার এক আইকন। শিশু সাহিত্য থেকে শুরু করে আজ মূল মঞ্চে এক ডজন বই প্রকাশ করে তিনি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।” তিনি নতুন প্রজন্মকে লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করার জন্য দেবাশীষ দেব শর্মার প্রতি আহ্বান জানান।
মালদা জেলার গবেষণাধর্মী প্রত্নতাত্ত্বিক লেখক ও প্রাক্তন আধিকারিক গোপাল লাহা বলেন, “দেবাশীষ দেব শর্মা শুধু বই প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নন, সমগ্র রাজ্যজুড়ে লেখক, স্কুল পরিচালনা এবং ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার উন্নয়নে যে কাজ তিনি করে চলেছেন, তা আমাদের জেলার গর্ব।”
বিশিষ্ট শিক্ষক ও কবি নওশাদ আলী তাঁর বক্তব্যে অনুরোধ জানান, আগামী কলকাতা বইমেলায় শোভা প্রকাশনীর একটি বৃহৎ স্টলের মাধ্যমে মালদা জেলার লেখকদের তুলে ধরার জন্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি পার্থ বসু, মালদা জেলা রোটারি ক্লাবের সম্পাদক ইন্দ্রনীল কর্মকার, তরুণ কবি মলয় কুমার মণ্ডল, আদিত্য কুমার চৌধুরী, ছোটদের লেখিকা মানসুদেব শর্মা এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষা রত্ন প্রাপক শিক্ষক অনুকূল বিশ্বাস। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শোভা প্রকাশনীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপিকা ড. পৌলমী রায়।
নিজের বক্তব্যে দেবাশীষ দেব শর্মা বলেন, “মালদা জেলা বইমেলার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত আমি এই বইমেলার সঙ্গে যুক্ত। আজ কলকাতার পরেই মালদা বইমেলা নিজের জায়গা করে নিয়েছে।” তিনি আগামী বছরের ৩৮তম মালদা জেলা বইমেলায় ৩৮টি আকর্ষণীয় বিষয়ের বই প্রকাশের ঘোষণা করেন। জেলার ১৯ জন বিশিষ্ট ও তরুণ লেখক এবং বাংলার ১৯ জন খ্যাতনামা লেখকের মোট ৩৮টি বই একসঙ্গে প্রকাশিত হবে বলে জানান, যা বাংলার প্রকাশনা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে।

