নিজস্ব সংবাদদাতা সম্পা ঘোষ আড়িয়াদহ, উত্তর ২৪ পরগনা:
গর্ব ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মাইলফলক ছুঁল দক্ষিণেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়। গত ১৬ই আগস্ট, এই ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পা দিল তার দেড়শো বছরের যাত্রাপথে। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় শুধু আড়িয়াদহ নয়, সমগ্র রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। শিক্ষার মান, কৃতি ছাত্রদের সাফল্য এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ — সব মিলিয়ে এই বিদ্যালয় যুগ যুগ ধরে শিক্ষাপ্রেমীদের গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা শুচিস্মিতা মুখোপাধ্যায়, যিনি ২০২৩ সালের জুন মাসে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই শিক্ষা ও পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর দৃঢ়তা, উদ্যম ও কর্মনিষ্ঠা ইতিমধ্যেই শিক্ষকমণ্ডলী, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ে পুনরায় চালু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান বিভাগ, যা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অনুপস্থিত ছিল। নতুন করে সংযোজিত হয়েছে দর্শন বিষয়ও। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে শুরু হয়েছে স্কাউট ট্রেনিং ও বিনামূল্যে অঙ্কন শিক্ষার ব্যবস্থা।
পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধাও বিদ্যালয়ের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আধুনিক বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও ভূগোল ল্যাবের পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে আপ-টু-ডেট কম্পিউটার ল্যাব। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় সমৃদ্ধ এই ল্যাবে ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতের দিশা খুঁজে নিচ্ছে। নিয়মিত আয়োজিত হচ্ছে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, সচেতনতামূলক সেমিনার এবং শিক্ষামূলক ভ্রমণ — যা ছাত্রদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও চিন্তার জগৎ প্রসারিত করতে সাহায্য করছে।
তবে, শিক্ষাক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জও কম নয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩২৫৪টি বিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা শুন্য, যা জাতীয় পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র। কিছু বিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল সত্ত্বেও শিক্ষক সংকট ও পরিকাঠামোগত সমস্যাও বিদ্যমান। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের এই নব জাগরণ এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে।
বিদ্যালয় পরিবার এবং এলাকাবাসীর আশা, প্রধান শিক্ষিকা শুচিস্মিতা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় অচিরেই রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় স্তরেও গর্বের প্রতীক হয়ে উঠবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদর্শের মেলবন্ধনে দক্ষিণেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় যেন আরও বহু যুগ শিক্ষার অগ্রপথিক হয়ে এগিয়ে চলে — এই কামনাই করছে সকলে।
#SouthDumDumEducation #DakhineswarSchool150Years #SchoolTransformation #WestBengalEducation #InspiringLeadership

