Wednesday, January 21, 2026
Homeখবরপদ্ম পুরস্কারে বাংলার গুণীদের তুলে ধরতে হিন্দু মহাসভার উদ্যোগ। এবার বাংলা থেকে...

পদ্ম পুরস্কারে বাংলার গুণীদের তুলে ধরতে হিন্দু মহাসভার উদ্যোগ। এবার বাংলা থেকে ২৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়ন করলেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদন:
বাংলার প্রকৃত গুণীদের স্বীকৃতি দিতে পদ্ম পুরস্কারের মনোনয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামী-র নেতৃত্বে গঠিত সাংস্কৃতিক সমন্বয় মঞ্চের সহযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ২৫ জন গুণী ব্যক্তিত্বের নাম মনোনয়নের জন্য রেজিস্টার করা হয়েছে।

এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ন্যাশনাল জার্নালিস্ট কমিশনের প্রেসিডেন্ট সুরথ চক্রবর্তী, যাঁর তত্ত্বাবধানে মনোনীত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।

হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোনীতদের সম্মান জানাতে শীঘ্রই একটি প্রেসমিট ও তথ্যচিত্র প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে তাঁদের নাম জমা দেওয়া হবে।

সংগঠনের বক্তব্য, “আমরা চাই জাতি, ধর্ম ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজসেবায় নিয়োজিত মানুষরা তাঁদের প্রাপ্য সম্মান পান। তাঁদের জীবন হোক আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।”

২০২৬ সালের জন্য যাঁদের নাম সুপারিশ করা হয়েছে:

প্রবীর কুমার বিশ্বাস – একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাহিত্যিক, যিনি বছরের অন্যতম বৃহৎ কাব্যগ্রন্থ রচনা করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর লেখা একাধিক কবিতার সংকলন পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং অনেকগুলি বই বেস্টসেলার হয়েছে। সাহিত্যজগতে তাঁর এই অসামান্য অবদান তাকে পদ্মশ্রী সম্মানের উপযুক্ত করে তোলে।

শর্মিষ্ঠা রায় চৌধুরী – একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মডেল, যিনি ২০২২ সালে “মিস কলকাতা তিলোত্তমা” খেতাবে সম্মানিত হন। তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে উপস্থাপন করে চলেছেন। বেঙ্গল ক্রিয়েটিভ ক্লাব-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

পণ্ডিত সুভাষ সিংহ রায়- পণ্ডিত সুভাষ সিংহ রায় হলেন ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বহু দশক ধরে তিনি সংগীতশিক্ষা, পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভারতীয় সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন ও প্রসারিত করেছেন। তাঁর নিঃস্বার্থ সেবা ও অনুপ্রেরণাদায়ক পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংগীতের সাধনায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

আশুতোষ মজুমদার – পূর্ব বর্ধমান জেলার এক নিষ্ঠাবান সমাজকর্মী হিসেবে তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিশুদের শিক্ষা, লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং মতুয়া মহামিলন মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সেবায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তাঁর নিরব, কিন্তু দৃঢ়চেতা সামাজিক অবদানে সমাজে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সঞ্চার হয়েছে।

মানিক পোদ্দার – আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সৃজনশীল ও শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী, যিনি উদয় শঙ্কর ঘরানার ধারাবাহিকতায় পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে নৃত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সমাজে শিক্ষামূলক ও নৈতিক জাগরণ ঘটিয়েছেন। গ্রামীণ ও অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে নৃত্যশিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে তিনি শিল্পকে জনসেবার এক শক্তিশালী মাধ্যম করে তুলেছেন।

শ্রী শ্যামল মুখোপাধ্যায় – এক নিঃস্বার্থ কবি, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী হিসেবে তিনি গ্রামীণ বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন। নৈতিক শিক্ষা ও শিশু সাহিত্য নিয়ে তাঁর সাহিত্যকর্ম বহু শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ফেরাতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি, স্বাক্ষরতা অভিযান, পরিবেশ সচেতনতা ও লোকসংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা আজ সমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

শ্রী শিবসৌম্য বিশ্বাস – পশ্চিমবঙ্গের এক বিশিষ্ট সাহিত্য ঐতিহাসিক, সংস্কৃতি গবেষক ও সমাজসংস্কারক, যিনি বাংলা সাহিত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। দীর্ঘদিনের লেখালেখি, দলিলভিত্তিক গবেষণা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাংলার বৌদ্ধিক ও আত্মিক ঐতিহ্যকে নবভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ডঃ শ্যামল কুমার দাস – জেনেটিক/রিয়েল হোমিওপ্যাথির একজন পথপ্রদর্শক চিকিৎসক ও গবেষক, যিনি বহু দশক ধরে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। নিঃস্ব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান ও ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে হাজার হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি অসাধারণ সামাজিক ও চিকিৎসা অবদান রেখেছেন।

শ্রী সরোজ ভট্টাচার্য – কলকাতা নিবাসী এক বিশিষ্ট লেখক ও সমাজশিক্ষক, যিনি বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সমাজের বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি কলকাতার একটি বস্তি অঞ্চলে দরিদ্র শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নৈতিক শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে রচনা করেছেন ৬০০-র বেশি কবিতা, ৪৫০ গল্প ও ৩০টি উপন্যাস। তার জীবন সাহিত্য, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য এক অনন্য উৎসর্গ।

মহাদেব গুড়িয়া – দক্ষিণ ২৪ পরগনার একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, পরিবেশকর্মী ও গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষাকারী। তিনি গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন শিক্ষার প্রসার, লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাহিত্যচর্চা এবং পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছেন, যা তাকে বাংলার মাটির সত্যিকারের সংস্কৃতিবান ও সমাজসেবী করে তুলেছে।

শ্রী উত্তম দেবনাথ – কৃষ্ণনগর, পশ্চিমবঙ্গের একজন বহুমুখী সাহিত্যিক, নাট্যকার, মূকাভিনেতা ও সমাজ সংস্কারক। সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে এসে তিনি কবিতা, নাটক, মূকাভিনয় ও সমাজসেবার মাধ্যমে সমাজের নানান অসাম্য, আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাঁর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গ্রামীণ যুবসমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আত্মপ্রকাশের সাহস ও সম্ভাবনার দিশা দেখিয়েছে।

শ্রী হিমেন্দু দাস – মুর্শিদাবাদের এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, কবি ও সমাজ সংস্কারক। গত দুই দশক ধরে তিনি অবহেলিত গ্রামীণ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকে সাফল্যের মডেলে রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় শত শত দরিদ্র ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন বদলে গেছে, এবং শিক্ষার আলো পৌঁছেছে দুর্গম এলাকাগুলিতে।
একজন স্বীকৃত কবি হিসেবে তাঁর সাহিত্যচর্চা, গ্রামীণ সাহিত্য আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—একজন সত্যিকারের গ্রাসরুট নেতা হিসেবে।

শ্রী আবদুল কাদের – বীরভূম জেলার একজন প্রান্তিক কবি, শিক্ষক ও সাহিত্যপিপাসু প্রজন্মের পথপ্রদর্শক। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা সাহিত্যচর্চা, সমাজসচেতন কবিতা রচনা ও দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের সাহিত্য শিক্ষায় উৎসাহিত করে চলেছেন।
তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে গ্রামীণ জীবনের বেদনা, সংগ্রাম ও মানবিক স্বপ্ন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাহিত্য পাঠ ও সৃষ্টির এক বিকল্প ধারা গড়ে তুলে তিনি হয়ে উঠেছেন গ্রামীণ বাংলার এক মর্যাদাপূর্ণ কণ্ঠস্বর ও সমাজমনস্ক সাংস্কৃতিক কর্মী।

শ্রী অমৃতলাল বিশ্বাস – উত্তর ২৪ পরগণার একজন সাহিত্যিক, শিক্ষক ও সমাজসংস্কারক, যিনি বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামীণ শিক্ষার প্রসার, বাংলা উপভাষার সংরক্ষণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
তাঁর গবেষণালব্ধ সাহিত্যকর্ম ও ভাষা-সংস্কৃতি বিষয়ক মাঠভিত্তিক কাজ বাংলার লোকজ বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এবং ভাষা-সংস্কৃতির পুনরুত্থানে তাঁর অবদান নিঃসন্দেহে জাতীয় স্বীকৃতির দাবি রাখে।

শুভ্রা ঘোষ – পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রদ্ধেয় কবি, সাহিত্যকর্মী ও সমাজসংস্কারক, যিনি প্রায় চার দশক ধরে বাংলা সাহিত্যচর্চা এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে নিরবিচারে কাজ করে চলেছেন।
তাঁর কবিতা যেমন শিল্পসুষমায় সমৃদ্ধ, তেমনই সমাজচেতনায় দীপ্ত। বিশেষত গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন, শিশুদের মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং সংস্কৃতির প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সাহিত্য ও সমাজসেবার মেলবন্ধনে তিনি এক অনন্য পথিকৃত।

ড. অনিরুদ্ধ পাল – পশ্চিমবঙ্গের একজন বিশিষ্ট প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা ও মানবিক সমাজকর্মী, যিনি ভারতের প্রশাসনিক পরিসরে ৪২ বছরের বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে এসেছেন।
সরকারি পরিষেবা থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, হোমিওপ্যাথি ও যোগচর্চার মাধ্যমে সমাজসেবায় যুক্ত রয়েছেন। সাহিত্য, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণের মিলিত পরিসরে তাঁর অবদান আজও সমাজে সুস্পষ্ট ছাপ রেখে চলেছে। তাঁর এই বহুমাত্রিক সেবা সত্যিই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির যোগ্য।

কবি লেখা মণ্ডল — বারাসাতের এই বিশিষ্ট কবি তাঁর কাব্যচর্চা ও সমাজসেবার মাধ্যমে বাংলার সাহিত্য ও মানবিকতার জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। চোরাবালি, অভিমানি বেলা, ও বন্দীর আর্তনাদ সহ একাধিক কাব্যগ্রন্থে তিনি প্রান্তিক মানুষের যন্ত্রণা ও প্রতিবাদকে কাব্যের ভাষায় তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, নারী ও শিশু কল্যাণে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা সমাজে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কৃষ্ণা পাত্র — পশ্চিম মেদিনীপুরের এই সাহিত্যিক ও শিক্ষিকা গত দুই দশক ধরে প্রান্তিক সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর লেখা সমাজসচেতন ও আধ্যাত্মিকতায় সমৃদ্ধ। স্নেহময় শিক্ষাদান, নৈতিক বোধ ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি বহু শিশুর জীবনে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি সারা জীবনব্যাপী ১৫০এর ওপর গানে সুর দিয়েছেন।

পরিমল চন্দ্র মজুমদার — একজন প্রাক্তন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, কবি ও সমাজসেবী হিসেবে তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন গ্রামীণ উন্নয়ন, শ্রমিকদের অধিকার এবং বাংলা সাহিত্যচর্চায়। বিদ্যুৎ-উদ্ভাবন, ন্যায্য মজুরির পক্ষে সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক লেখালেখির মাধ্যমে তিনি সমাজে গৌরবজনক ভূমিকা পালন করেছেন ও নানা সাহিত্য পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

মহুয়া সাহা — একনিষ্ঠ বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজসেবী হিসেবে তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে যেমন মানবিক বোধ জাগিয়েছেন, তেমনি নাগরিক সচেতনতা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আনন্দ প্রকাশনের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা থেকে তাঁর গল্পসংকলন প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়মিত রক্তদান, চক্ষুদান প্রতিশ্রুতি ও জনসচেতনতামূলক লেখার মাধ্যমে তিনি প্রকৃত মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাহিত্যের গভীরতা ও সমাজের প্রতি দায়বোধ—দুয়ের সংমিশ্রণে মহুয়া সাহা একজন শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

নাজনিনা সুলতানা — মুর্শিদাবাদ জেলার একজন সম্মানীয় কবি, শিক্ষিকা ও নারী-অধিকার কর্মী। গ্রামীণ শিক্ষার প্রসার, নারী-শক্তির বিকাশ ও সামাজিক সচেতনতার কবিতার মাধ্যমে তিনি পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তির শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগ আজকের সময়ে এক প্রেরণার উৎস।

শ্রী স্বপন কুমার রুই দাস – পশ্চিম বর্ধমানের প্রবীণ সমাজকর্মী ও সাহিত্যিক, যিনি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অনগ্রসর ও আদিবাসী সমাজের upliftment-এর লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষামূলক উদ্যোগ, ছয়টি কাব্যগ্রন্থ এবং প্রভাবশালী নাটক “বলী”-র মাধ্যমে তিনি সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

সুনীতা রায় প্রধান – পূর্ব মেদিনীপুরের বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী, সংগীত শিক্ষিকা ও সাহিত্যিক, যিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামীণ বাংলায় সংগীত সাধনা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। চূঢ়ামণি সংগীতায়নের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া বহু মানুষকে সংগীত শিক্ষায় উৎসাহিত করেছেন।

তরুণ কান্তি মন্ডল- তরুণ কান্তি মন্ডল একজন সংগ্রামী কবি ও সমাজসেবী, যিনি লেখনী, শিক্ষা ও নিঃস্বার্থ সমাজসেবার মাধ্যমে গ্রামের শিকড় থেকে উঠে এসে সমাজে আলো ছড়াচ্ছেন।
দারিদ্র্যকে অতিক্রম করে তিনি শত শত দরিদ্র শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়িয়ে চলেছেন এবং বাংলা সাহিত্যে অবদান রেখে চলেছেন।

সিপ্তি সরকার- সিপ্তি সরকার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের নিবাসী এক মানবিকতাপূর্ণ কবি ও সাহিত্যসেবী। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বর্ধমানেই। শিক্ষা উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত হলেও, ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন ক্লাব, পৌরসভা ও গ্রামীণ সংস্কৃতিক মঞ্চে নাটক, আবৃত্তি ও লেখালেখিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পুরস্কৃত হয়েছেন।
তিনি কেন্দ্রীয় ব্রতচারী ট্রেনিং প্রাপ্ত এবং বর্তমানে সমাজসেবার (বিশেষত প্রয়াস) সঙ্গে যুক্ত থেকে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবসেবাকে তিনি ধর্ম মনে করেন।
তাঁর লেখা বহু কবিতা, গল্প ও স্মরণীয় রচনা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ২০২০ সালে তাঁর একক কবিতার বই ‘সন্তরণ’ প্রকাশিত হয়, যা সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি কেন্দ্রীয় ব্রতচারী ট্রেনিং প্রাপ্ত এবং বর্তমানে সমাজসেবার (বিশেষত প্রয়াস) সঙ্গে যুক্ত থেকে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবসেবাকে তিনি ধর্ম মনে করেন।

শংকর দাস – প্রায় পাঁচ দশক ধরে আলোকচিত্র ও চিত্রশিল্পের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি পূর্ব ভারতের বৃহত্তম আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও চিত্রমেলার প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে অসংখ্য নবীন শিল্পী ও ছাত্রছাত্রী দিশা ও জীবিকার সুযোগ পেয়েছেন। সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আলোকচিত্রকে সামাজিক দায়িত্বের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সুরথ চক্রবর্তী – শ্রী সুরথ চক্রবর্তী একজন বিশিষ্ট শিল্পী, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ভারতীয় চিত্রকলার প্রসার ও ঐতিহ্যবাহী শৈলীর বিকাশে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেছেন। একজন ফাইন আর্টস প্রফেসর হিসেবে তিনি বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন তাঁর শিল্পসাধনা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমে।
‘বেঙ্গল ক্রিয়েটিভ ক্লাব’-এর সভাপতি হিসেবে তিনি দেশব্যাপী শিল্পীদের একত্রিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments