নিজস্ব সংবাদদাতা সম্পা ঘোষ: বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের স্মরণে অনুষ্ঠিত হলো ১১তম ইন্দো-বাংলা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫। এবারের বিশেষ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীন এপি স্টুডিও, তবে প্রদর্শনী ও আলোচনা পর্ব সম্পূর্ণ হয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।
শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, এবারের উৎসব পরিণত হয় এক পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক আসরে। ঋতুপর্ণ ঘোষের শিল্পচিন্তা, সাহিত্য, নাটক ও সংগীতকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠান। শুরু হয় আবেগঘন সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে, এরপর কবিতা উৎসব, শ্রুতি নাটক ও নাট্য পাঠে ঋতুপর্ণের লেখা, সংলাপ ও সাক্ষাৎকারের অংশ উঠে আসে।
উৎসবে জমা পড়া ৬৫টি ছবির মধ্যে নির্বাচিত হয় ৩২টি চলচ্চিত্র, যার মধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য, তথ্যচিত্র ও পরীক্ষামূলক ছবি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনলাইনে প্রদর্শিত ছবির মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় “নির্বাক পত্র”, “ছায়াময়” ও “জলছবি”। সামাজিক ও মানবিক বার্তায় ভরপুর এই ছবিগুলি ঋতুপর্ণ ঘোষের কাজের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হয়ে ওঠে।
এক আবেগঘন মুহূর্তে প্রদান করা হয় “ঋতুপর্ণা স্মারক সম্মান”। মোট ৩২ জন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিশু শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী এই সম্মাননা পান। অভিনেত্রী শান্তনা বসু বলেন, “ঋতুপর্ণ ঘোষ আমার অনুপ্রেরণা। এই সম্মান পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানায়িকা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ঋতুপর্ণের মতো শিল্পী জন্মায় একশো বছরে একবার। তাঁকে স্মরণ মানে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে স্মরণ করা।”
উৎসবের চেয়ারম্যান শ্রী দাস, সেক্রেটারি বিশাল বিশ্বাস, সভাধিপতি অরুনিমা চট্টোপাধ্যায় ও পরিচালক অরিপ্রিয়া বসুর যৌথ প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান রূপ নেয় চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির এক ঐক্যবদ্ধ মঞ্চে।
উৎসব শেষে আয়োজকরা জানান, ঋতুপর্ণ ঘোষের স্বপ্ন ও সৃজনশীলতা আগামী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করবে। বাংলা ও উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রের ঐক্যের বার্তাই ছিল এবারের উৎসবের আসল প্রাপ্তি।

