হুগলিতে নির্বাচন ও উৎসব ঘিরে হাই অ্যালার্ট, কড়া নিরাপত্তা প্রশাসনের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, রাম নবমী ও হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে হুগলি জেলা জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এই বিষয়ে জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সুনীল কুমার যাদব এবং হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কুমার সানি রাজ সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত জানান।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে চন্দননগর কমিশনারেট এলাকায় ১১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাম নবমী উপলক্ষে অতিরিক্ত ২ কোম্পানি বাহিনী আনা হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে ১৬ কোম্পানি বাহিনী। প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও বাহিনী বাড়ানো হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, Suvidha App শুধুমাত্র নির্বাচনী অনুমতির জন্য ব্যবহৃত হবে। কোনও রাজনৈতিক সভা বা মিছিল করতে হলে অন্তত ৫ দিন আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। রাম নবমী ও হনুমান জয়ন্তী-র শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মসূচি করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। গুজব এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভুয়ো খবর ছড়াতে না পারে।
অন্যদিকে, জেলাশাসক জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছিল, তাদের শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে যাদের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় আসেনি, তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। এই জন্য এসডিও স্তরে ও অনলাইনে হেল্পডেস্ক চালু করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, জেলায় লাগাতার নাকাবন্দি চলছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কেউ অশান্তি বা হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন চলাকালীন যেকোনও ধরনের হিংসার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।

