ভোটের আগে পাটুলির পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় শ্যুটআউট। গুলিতে এক তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু। গুলিতে মৃত্যু তৃণমূলকর্মী রাহুল দে-র। পাটুলির এক বহুতলের ছাদে অন্তত ৩ রাউন্ড গুলি চলার খবর। ওই বহুতলে জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে এক পরিচিতর ফ্ল্যাটে গেছিলেন রাহুল। জিৎ মুখোপাধ্যায় গতকাল ফোন করে নিজের ফ্ল্যাটে রাহুলকে ডেকেছিল, দাবি মৃতের পরিবারের। আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায়ও, ঘটনাস্থলে পাটুলি থানার পুলিশ।
জানা যাচ্ছে, রাহুল এবং জিৎ পূর্ব পরিচিত। তবে, দীর্ঘদিন তাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। বুধবার রাতে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাহুল। এরপর জিৎ-এর বাড়ির ছাদে বসেছিলেন সকলে। মদ্যপান করছিলেন বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদা গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। প্রায় তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। ছাদের উপর বাকি যাঁরা ছিলেন তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে থেকেই রাহুলের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সাল থেকে জিৎ পাটুলি ছাড়া ছিলেন। একাধিকবার পাটুলি থানার হাতে গ্রেফতার হয়েছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ। তিনি এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের অনুগত সৈনিক হয়ে কাজ শুরু করলেও, পরবর্তীতে কাউন্সিলরের নাম করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয় এলাকা জুড়ে। এরপর খোদ কাউন্সিলরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। একবার-দু’বার নয়, অন্তত বেশ কয়েকবার থানার হাতে গ্রেফতার হয়েছে এই জিৎ।
এরপরই এলাকার তৃণমূল শিবির থেকে তাঁকে বের করে এলাকা ছাড়া করা হয়। পার্শ্ববর্তী ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে শুরু করে এই জিৎ। তবে সেখানে গিয়েও একই অপরাধে উপযুক্ত হয়ে পড়ে এই যুবক বলে অভিযোগ। নেতাজি নগর থানার হাতেও তাঁকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হতে হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পাটুলির ফুলবাগানে আবার বাবা মায়ের ফ্ল্যাটে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। দাবি ছিল,বাবা এবং মাকে দেখতে আসছে। এলাকায় থাকার জন্য আসছে না।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের আবাসনের ছাদে মদ্যপানের আসর বসানোর জন্য রাহুলকে নিমন্ত্রণ করেন তিনি বলে অভিযোগ। সেই মতোই আসর চলছিল। তখনই জিৎ-রাহুলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা ওই আবাসনে ঢুকে পড়ে ছাদে চলে যায়। সেখানেই পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রাহুলের প্রাণ যায়। জিৎ জখম হয়ে ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, সিন্ডিকেট এবং টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ। তাতেই এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে যায়।
ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতরা হল— দীপ রায় ওরফে পুকাই (৩৩), বিধান বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭), রাজা বণিক (৩৬) এবং জয়ন্ত ঘোষ। ধৃতদের মধ্যে দু’জন নারেন্দ্রপুর থানার এবং বাকি দু’জন নেতাজিনগর থানার এলাকার বাসিন্দা।

