নিজস্ব সংবাদদাতা শম্পা ঘোষ, কলকাতা: ভারতের বৈচিত্র্যময় উৎসব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রঙিন মুহূর্ত এবার ধরা পড়ল ক্যামেরার লেন্সে। কলকাতার ঐতিহাসিক পাথুরিয়াঘাটার ৩৩৪ বছরেরও বেশি পুরনো বনেদি বাড়ি ‘হরকুটির’-এ অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রদর্শনী ‘Festivals of India’।
দেশের ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির প্রাঙ্গণে এই ধরনের বৃহৎ আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রদর্শনী আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক দুর্গাপুজোর জন্য পরিচিত হরকুটিরের গৌরবময় পরিবেশে এবার মিলন ঘটল ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধুনিক ভিজ্যুয়াল আর্টের।
প্রদর্শনীতে ভারত, জার্মানি, স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৭২ জন আলোকচিত্রী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের তোলা ১৪৫টি নির্বাচিত আলোকচিত্রে ফুটে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন উৎসব, লোকজ সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নানা রঙিন মুহূর্ত।
এই বিশেষ প্রদর্শনীর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ড. আর্চিস্মান রায় বন্দ্যোপাধ্যায়, হরোকুটিরের Owner ও CEO এবং ঐতিহ্যবাহী রায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দ্বাদশ প্রজন্মের উত্তরসূরি। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগেই ঐতিহাসিক হরকুটির পেল আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি শিল্পচর্চার এক বিশেষ মঞ্চ।
ছবিগুলির মূল্যায়নে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট জুরি প্যানেল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডকুমেন্টারি ফোটোগ্রাফির জন্য পরিচিত সিদ্ধার্থ পাল, পূর্ব ভারতের লোকজ সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা মহেশ কুমার মিশ্র এবং Calcutta Instagrammers-এর প্রতিষ্ঠাতা ও আলোকচিত্রী সম্যব্রত মল্লিক।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি হরকুটিরের ঐতিহাসিক দালানে আয়োজন করা হয় ‘বৈঠকী আড্ডা’। সেখানে ফোটোগ্রাফির বর্তমান পরিস্থিতি, নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে এই শিল্পমাধ্যমের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রীরা।
অনুষ্ঠানকে আরও বিশেষ করে তোলে Team IG Calcutta (@ig_calcutta)-র সক্রিয় সহযোগিতা। একই দিনে কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় Instagram Photography Community-টির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও উদযাপিত হয় হরকুটিরে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও East India Pharmaceutical Works Limited-এর Managing Director দেবর্ষি দত্তগুপ্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন G S Sales Corporation এবং Indian International Mega Trade Fair (IIMTF)-এর Director সিদ্ধার্থ দত্ত গুপ্ত।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী আলোকচিত্রীদের মধ্যে ছিলেন—অভিজিৎ সেন, অভিরূপ মুখোপাধ্যায়, অচ্যুত চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট অদিতি বিশ্বাস, আকাশ রায়, অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়, অনিন্দিতা দাস, অনিরুদ্ধ দত্ত, অনীশ সিংহ, অঙ্কিত পাল, অন্তরীপ কবিরাজ, অনুভব ভট্টাচার্য, অর্ক চৌধুরী, অর্কপ্রিয় পাল, অর্ণব বার, অর্ণব রায় চৌধুরী, অর্ণব শর্মা সরকার, অরিন্দম ভূঁইয়া, অরিত্র বের, অরিত্র ঘোষ, অভিক সিনহা রায়, আয়ুষ্মান দাস, বিক্রমাদিত্য সরকার, চিরন্তন দত্ত, চিরঞ্জিত দত্ত, দেবাঞ্জয় দাস, দেবার্জ্য দে, দেবজ্যোতি দাস, দেবজ্যোতি রায়, দীপ্যমান ঘোষ, দীপায়ন ঘোষ, ড. ইন্দ্রনীল সাহা, ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ক্লিভিয়া মজুমদার, রুনা ইসাবেল লিন্ডবার্গ, মহাপ্রসাদ দত্ত, মনু প্রজাপতি, মৃন্ময় দত্ত, নাভনীল শীল, প্রণবেশ পাণ্ডা, প্রীতি কুণ্ডু, প্রীতম দাস, রাজদীপ সাহা, সন্দীপ শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জনা গুপ্তা, সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি মৈত্র, সায়ন বিশ্বাস, সায়ন সাহা, শঙ্কর দেবনাথ, শান্তনু মাইতি, শায়ন বসু, শিবম আর্য, সিদ্ধান্ত নন্দী, শ্রেয়া দাস, শুভায়ু মণ্ডল, শিবাঞ্জন সাহা, শিক্তা পাত্র, স্নেহা বিশ্বাস, সৌম্য চৌধুরী, সৌম্যজিৎ সিনহা, সৌরদীপ বিশ্বাস, সৌগত বিশ্বাস, সৌরভ বণিক, শ্রীময়ী পাল, শুভম ঘোষ, শুভ্রপ্রতিম সারদার, সুদীপ্ত চক্রবর্তী, সুপ্রিয় ঘোষ, তন্ময় রাজ, বৈদেহী খান্ডেলওয়াল এবং বিনায়ক ভি. বেলোসে। ড. আর্চিস্মান রায় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ এবং ৩৩৪ বছরের ঐতিহাসিক হরকুটিরের গৌরবময় পরিবেশে ‘Festivals of India’ হয়ে উঠল ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পচর্চার এক অনন্য মেলবন্ধন। কলকাতার বনেদিয়ানা, শতাব্দীপ্রাচীন সংস্কৃতি এবং দেশ-বিদেশের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতার এই সমন্বয় শহরের সাংস্কৃতিক পরিসরে নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় সংযোজন।

