Wednesday, March 4, 2026
Homeখবরবাংলার ঢাকশিল্পের পুনর্জাগরণে ‘বাংলার সৌহার্দ্য’ — বিশ্বমঞ্চে নতুন দিগন্ত

বাংলার ঢাকশিল্পের পুনর্জাগরণে ‘বাংলার সৌহার্দ্য’ — বিশ্বমঞ্চে নতুন দিগন্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা, সম্পা ঘোষ: বাংলার প্রাচীন ঢাকশিল্প যখন অবহেলার কারণে বিলুপ্তির পথে, ঠিক তখনই ২০০৬ সালে সঞ্জীব সরকার (মাস্টার দা)-র নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলার সৌহার্দ্য’। প্রায় দুই দশকের নিরলস প্রচেষ্টায় সংগঠনটি আজ ১২টি জেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের এক বিশাল পরিবারে পরিণত হয়েছে।

সংগঠনটি ইতিমধ্যে ২৬ হাজার ঢাকি পরিবারের উপর সমীক্ষা চালিয়ে বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, ফিরিয়ে এনেছে ঢাকশিল্পে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীব সরকারের বিশ্বাস—“যে শিল্প হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে, তাকে মর্যাদা ও উন্নয়ন দিতে হবে। ঢাক শুধু উৎসবের অংশ নয়, এটি বাংলার আত্মপরিচয়ের প্রতীক।”

বাংলার মার্গীয় সঙ্গীতের অভিভাবক পণ্ডিত সুভাষ সিংহ রায় এই আন্দোলনে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে ১২ হাজার ঢাকিকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।

এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়েছেন ন্যাশনাল জার্নালিস্ট কমিশনের প্রেসিডেন্ট সুরথ চক্রবর্তী, যিনি শিল্পীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী ও ‘কলকাতা তিলোত্তমা’ পুরস্কারজয়ী শর্মিষ্ঠা রায় চৌধুরী বিশ্বমঞ্চে ঢাকশিল্পের নতুন পরিচিতি এনে দিচ্ছেন। তিনি দেশ-বিদেশে পারফরম্যান্স ট্রেনিং ও গ্রুমিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকি সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছেন।

এছাড়াও সমাজসেবিকা যাজ্ঞসসেনী দাস ও শিক্ষানুরাগী আশুতোষ মজুমদার ঢাকি পরিবারের জন্য স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

সঞ্জীব সরকারের নেতৃত্বে ‘বাংলার সৌহার্দ্য’ আজ শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন নয়, বরং বাংলার ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments